আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কতটুকু স্টোরেজ প্রয়োজন?

0
290

ধরুন, আপনি সদ্য বাজারে আসা শাওমির Redmi Note 11 ফোনটি কিনবেন। স্মার্টফোনটি ৪/৬৪, ৪/১২৮ এবং ৬/১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে। এখন স্বভাবতই আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কত জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের স্মার্টফোন কিনলে ভালো হবে। এখন আপনি চাইলেও এই ফোনে ব্যবহৃত স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০ প্রসেসর চেঞ্জ করে নিতে পারবেন না। তবে আপনি ৬৪/১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে যেকোন একটা নিতে পারবেন।

কারো জন্য ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ ই যথেষ্ঠ আবার কারো জন্য Galaxy S22 Ultra এর 1TB এডিশন ও কম মনে হতে পারে। আসলে এটা কয়েকটি বিষয়ের উপরে নির্ভর করে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কতটুকু স্টোরেজ প্রয়োজন

যা আপনার ফোনে সবচেয়ে বেশি স্টোরেজ স্পেস নেয়

কোন জিনিসগুলি আসলে আপনার ফোনে সবচেয়ে বেশি স্টোরেজ স্পেস নেয় এটি নির্ভর করবে আপনি কীভাবে আপনার ফোন ব্যবহার করেন তার উপর। তবে আমরা কিছু সাধারণ পর্যবেক্ষণ করতেই পারি।

আপনার ফোনের স্টোরেজে সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল নিয়ে থাকে সিস্টেম ফাইল ও ফোনের অ্যাপ/গেমস ডাটা। সিস্টেম ফাইলে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং ফোনকে ব্যাবহারযোগ্য করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর অ্যাপস ও গেমস ডাউনলোড করার পরে ও ব্যাবহারের ডাটা স্টোরেজে আলাদা ফাইল তৈরি করে। অনেক সময় গেমস এর জন্য অতিরিক্ত ফাইল ডাউনলোডের প্রয়োজন পরে।

এরপরে, ফোনের ছবি ও ভিডিও সবচেয়ে বেশি জায়াগা দখল করে। বর্তমানে Android ফোনে হাই রেজুলেশন ক্যামেরা ব্যবহার করার ফলে ফটো ও ভিডিও গুলো অনেক জায়গা নেয়। এছাড়াও মিউজিক, বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট ফাইল, ডাউনলোডেড ফাইল ফোনের স্টোরেজে জায়গা নেয়। তবে সিস্টেম ফাইল ছাড়া বাদবাকি অ্যাপস/গেমস, মিউজিক ফাইল, ফটো ও ডিডিও এই ধরনের ফাইল গুলো আপনি নিজে কনট্রোল করতে পারবেন।

ফোনের স্টোরেজ কতটুকু ব্যবহার হয়েছে তা কিভাবে চেক করবেন

Android ফোনে আপনি কতটা স্টোরেজ ব্যবহার করছেন এবং কোন জিনিসগুলি সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে তা খুব সহজেই জানা যায়। এর জন্য আপনাকে প্রথমে সেটিংস এ যেতে হবে।

এরপরে স্টোরেজ অপশনে যেতে হবে। আপনি যদি স্টক অ্যান্ড্রয়েড এর ফোন ব্যবহার করেন তাহলে সরাসরি সেটিংস এই “Storage” পেয়ে যাবেন। আর যদি স্যামসাং ফোন ব্যবহার করেন, তাহলে “Battery and Device Care” থেকে “Storage” এ যেতে হবে। শাওমি মোবাইলের ক্ষেত্রে, প্রথমে “About Phone” এ যেতে হবে।

“Storage” সেকশনে আপনি দেখতে পারবেন আপনার ফোনের কতটুকু স্পেস ব্যবহার করেছেন এবং কোন ফাইল কতটুকু জায়গা নিয়ে আছে তা দেখতে পারবেন।

তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কতটুকু স্টোরেজ প্রয়োজন?

এটা সম্পুর্ন ডিপেন্ড করে ইউজারের উপর। আপনি যদি নরমাল ইউজার হয়ে থাকেন- স্মার্টফোনে কথা বলা, ছবি উঠানো, ভিডিও করা, টুকটাক স্ট্রিমিং করেন এবং ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজের পাশাপাশি ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ আপনার জন্য যথেষ্ট।

আপনি যদি মিউজিক লাভার হয়ে থাকেন এবং ফোনে দৈনন্দিন কাজ করেন তাহলে ৬৪ জিবি স্টোরেজ আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। তবে আপনি যদি ছবি তোলা, গেমিং এর পাশাপাশি হেভি ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে ১২৮ জিবি বা এর উপরের স্টোরেজ স্মার্টফোন নির্বাচন করা উচিৎ।

তবে ১২৮ জিবি স্টোরেজের স্মার্টফোন নিলে মোটামুটি আপনি সব ধরনের কাজ করতে পারবেন। তাই আমার কাছে মনে হয় সব ধরনের ইউজারদের জন্য ১২৮ জিবি স্টোরেজ যথেষ্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here